নোয়াখালীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চলছে হামের প্রকোপ। প্রতিদিন হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন নতুন শিশু রোগীদের পাশা পাশি বয়স্ক রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। অনেকে হামের সঙ্গে নিমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ববাধায়ক ডা, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, রবিবার বিকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ৮৬জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৯ জন ভর্তি হয়েছেন।
শুরুতে কেবল শিশুরা আক্রান্ত হলেও এখন বড়দের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। হামের সঙ্গে নিমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অনেখে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ বিভিন্ন বয়সের রোগী।
তিনি আরো বলেন, শিশু রোগীদের জন্য হাসপাতালে আইসিইউ নেই। যার কারনে আশংকাজনক অবস্থায় শনিবার ৯ মাসের এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের ঢাকায় রেফার করতে হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের উপর অতিরিক্ত চাপ বেড়ে চলছে।
সরজমিনে দেখাযায়. নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন সেন্টারে মোট ৪০টি শয্যা বা বেড রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় অনেক রোগীর মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার আশংখা রয়েছে।
এদিকে জেলায় এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৯টি উপজেলা এবং নোয়াখালী পৌরসভা ও চৌমুহনী পৌরসভাসহ ২টি পৌরসভার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫ লাখ ৫ হাজার ৩৫০ শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে ১১ কর্মদিবস এবং পৌরসভাগুলোতে ১৪ দিনব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে জেলার সিভিল সার্জনের দপ্তর।


