অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা জটিলতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট অডিট) সৈয়দ মুসফিকুর রহমানকে ডেকে অনলাইন রিটার্ন সংক্রান্ত সব ধরনের জটিলতা দ্রæত চিহ্নিত ও সমাধানের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান।
সভায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) প্রতিনিধি ও এএইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হারেস মোহাম্মদ অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু পূর্বের রিটার্নগুলো সিস্টেমে হালনাগাদ না থাকায় অনলাইনে জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’
হালনাগাদের প্রক্রিয়াও জটিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাইয়ের নামে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রæত করার লক্ষ্যেই অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। পূর্বে জমা দেওয়া ম্যানুয়াল রিটার্ন করদাতাদের নিজ উদ্যোগে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।’
তবে বাস্তব সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দায়িত্ব ছিল, আমরা সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোথায় কত রিটার্ন ঝুলে আছে, কী কারণে আটকে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ডেকে দ্রæত সমাধান করতে হবে।’
চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন, ৩১ মার্চ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যেসব রিটার্ন এখনো ঝুলে আছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বের করে দ্রæত নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সভায় করদাতাদের সমস্যার বিষয়ে খোলামেলা মতামত দেওয়ার আহŸান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা নির্দ্বিধায় সমস্যাগুলো তুলে ধরুন, আমরা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ভ্যাটব্যবস্থা আরো সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


