অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, রংপুর অঞ্চলে জরিপের মাধ্যমে ট্যাক্সের হার বাড়লে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা চেম্বারের নেতৃবৃন্দ যুক্ত ছিলেন।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মনজুর আহমেদের সঞ্চালনায় রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট গোলাম জাকারিয়া পিন্টু, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলাম পটু, রংপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট শাহনাজ পারভীন শাহীন, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলহাজ মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি আকবর আলী, বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরা মালিক সমিতির রংপুর শাখার পক্ষ থেকে মোঃ ইব্রাহীম বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এবারের বাজেটে সকল চেম্বারের প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন সেক্টরের নীতিমালা সংশোধন পূর্বক সঠিকতা যাচাই বাছাই করে জাতীয় বাজেটে তুলে ধরার আশ^াস প্রদান করেন। ভ্যাট রিটার্ণ প্রক্রিয়া আরো সহজীকরণ ও ট্যাক্স প্রদানের বিষয়টি নিয়ে আরো কাজ করা হবে।
বৃহত্তর রংপুর জেলা বিড়ি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আলহাজ্ব এমদাদুল হক ভরসা ও আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমান বলেন, বিড়ি শিল্পে বিড়ির কাগজে ভ্যাট নির্ধারণ করা হলে সাধারণ বিড়ি শিল্প ব্যবসায়ী উপকৃত হবে এবং দেশের রাজস্ব দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাবে। সোনাহাট কাষ্টমস সি এন্ড এফ এর পক্ষ থেকে সালেকুজ্জামান সালেক, জিপিসি বস্ত্র ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে সাধারন সম্পাদক মুকিত মাহমুদ বক্তব্য রাখেন।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক পার্থ বোস বলেন, বাংলাদেশে ৪ কোটি ব্যবসায়ীর মধ্যে ভ্যাট দিচ্ছে ৬ থেকে ৭ লক্ষ ব্যবসায়ী ও ট্যাক্স দিচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ ব্যবসায়ী। আমরা চাচ্ছি যদি অন্তত ৩ কোটি ব্যবসায়ীদের থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্স রিটার্নের আওতাভুক্ত করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সরকারের চাহিদা থেকেও বেশি অর্থ রাজস্ব জমা হতো।
ব্যবসায়ীদের ভ্যাট ও ট্যাক্স রিটার্ন ১৫ তারিখ অতিক্রম করলে দুই হাজার টাকা কমিয়ে এক হাজার টাকা করা এবং আমাদের প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা হলে রংপুর অঞ্চলসহ আমাদের দেশ সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে বলে আমি মনে করি ।
রংপুর জেলা টাইলস ও স্যানিটারী ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রণয় বণিক, রংপুর ইট ভাটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মোঃ আজিজুল হক বক্তব্য রাখেন এবং অনলাইনে পঞ্চগড় চেম্বারের পক্ষ থেকে চেম্বারের সভাপতি এনবিআর চেয়ারম্যানের নিকট তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বক্তারা রংপুর চেম্বারের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভূক্তির লক্ষ্যে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আয়কর ও অন্যান্য কর সম্পর্কিত বিষয়ে যেসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে তা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে আসন্ন বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করে পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলকে এগিয়ে নেয়ার আহŸান জানান।
প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনার (কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুর) মোহাম্মদ সফিউর রহমান, রংপুর কর অঞ্চলের কর কমিশনার মোঃ আবু সাইদ সোহেল, বিভিন্ন সরকারি অফিসের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, কর ও ভ্যাট অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রংপুর চেম্বারের কর্মকর্তা ও পরিচালকবৃন্দ, আমদানি-রপ্তানিকারকবৃন্দ, সিএন্ডএফ এজেন্টবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিবৃন্দ, সুধীজন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।


