২২০০ টাকার নিচে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায় না

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও ২ হাজার ২০০ টাকা নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়।

গ্যাস ছাড়া চুলা জ্বালানোর জ্বালানি নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

নিজ নির্বাচনি এলাকায় ঘরে ঘরে নতুন গ্যাস সংযোগ চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মেঘনা ও তিতাসপারের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কিংবা শচীন দেববর্মনের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। কীর্তন ও বাউলগানের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছানামুখী মিষ্টির অপূর্ব স্বাদের দেশ আমার ‘বামুনবাইরা’। দিগন্তজোড়া হাওরের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আবার তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার দেশও কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বা অলি আহাদের মতো সংগ্রামী যোদ্ধারা, যাদের কল্যাণে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। আশুগঞ্জ এলাকার শিল্পকারখানার কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা বাংলাদেশে; কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না।

সরাইলের আবাসিক গ্যাস সংযোগ থাকলেও গ্রাহকেরা গ্যাসের সংকটে রয়েছেন। সকাল সাতটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। চুলা মিটমিট করে জ্বলে। মন চাইলে এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে। তারপর রাত পর্যন্ত গ্যাসের খবর নেই।

স্বতন্ত্র এই সদস্য বলেন, আমাদের জীবনমানের এতই উন্নতি হয়েছে, গ্রাম বা মফস্বলের মানুষ ফ্ল্যাটে থাকে, পাকা বাড়িতে থাকে। উঠানে অনেকটাই বিলাসিতা। মাটির চুলায় রান্না করা বাস্তবতা বিবর্জিত। অন্যদিকে ১ হাজার ৯৪০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বলে বটে, কিন্তু ২ হাজার ২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আর বিদ্যুতের চুলার কথা যদি বলি, ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলা জ্বালানোর জ্বালানি নেই।

পরে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর দেওয়া বক্তব্যে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় লাইনে সরবরাহ কমেছে। উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পকারখানায় যতখানি সম্ভব গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনো রকম অনুসন্ধান করেনি।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে শক্তিশালী করে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিগত সরকার জ্বালানি খাতে জবাবদিহি করতে হবে না, এমন ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) আইন পাস করে। এ খাতকে আমদানিনির্ভর করে দিয়েছে। বিশাল অঙ্কের বকেয়া রেখে গেছে। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশীয় পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ডে যে ‘লেফটওভার’ (ফেলে রাখা) গ্যাস আছে, সেগুলো উত্তোলন করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হবে।

পরে রুমিন ফারহানা বলেন, গ্যাসের অভাবে আশুগঞ্জ সার কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে। যদি সার কারখানায় গ্যাস দেওয়া হয় তাহলে তিনি এলাকার মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারবেন। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্ষতি হলেও দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আগামী ১ মে থেকে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments