জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজিত প্রার্থী ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে দলটিতে যোগদান করেন তিনি।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলটিতে যোগ দেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা। আরও যোগ দেন জনপ্রিয় সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন ইসহাক সরকার। বর্তমানে এই পদে থাকা দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ সরে দাঁড়াচ্ছেন। যোগদান অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। ইসহাক সরকার ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ভ‚মিকার কারণে তিনি তিন শতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাসও পান। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক সরকার। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
একই অনুষ্ঠানে এনসিপিতে যোগ দেয়া মহিউদ্দিন রনি রেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। অন্যদিকে নুরুজ্জামান কাফি তার জনপ্রিয় সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিত মুখ। নতুন রাজনৈতিক এই প্ল্যাটফর্মে তাদের অন্তর্ভুক্তি এনসিপিকে আরও চাঙা করবে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এই দিন পেয়েছি, কথা বলার অধিকার পেয়েছি। যদি দেখি বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবার একইভাবে ফ্যাসিবাদের ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে আমরা আবার রাজপথে নেমে আসবো। আপনাদের পতন ঘটাতে আমরা বেশি সময় নেবে না।
তিনি বলেন, সরকারকে আহŸান করবো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিন, কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিন, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দিন। নতুবা আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
ইসহাক সরকার বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাদের আমরা দেখেছি- এই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতে অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগ, অনেক জীবনের মূল্যের বিনিময়ে ৩৬ জুলাই একটি ঐতিহাসিক গণবিপ্লব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা যখন দেখেছিলাম ছাত্ররা রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন আমি আমার নিজের তাগিদেই সেদিন ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাজপথে নেমে এসেছিলাম আমাদের কর্মীবাহিনী নিয়ে।
তিনি বলেন, আমি যদিও বক্তা নই, আমি একজন বিপ্লবী। জীবনের যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমাকে কারাগারেই থাকতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর বিভিন্ন মেয়াদে আমি কারাগারে ছিলাম। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অসংখ্য সহযোদ্ধা, সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমি দীর্ঘদিন ধরে দেখেছি- এই এনসিপির মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষের একমাত্র মুক্তি মিলবে। আমি মনে করি, এনসিপির মাধ্যমেই এ দেশে মুক্তির সনদ নির্দিষ্ট করা আছে।
ইসহাক সরকার আরও বলেন,আমি যে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, আজ দেখতে পাচ্ছি সেই দল তার গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে গেছে। হয়তো তারা ভুলে গেছে ১৪০০ শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এ দেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। এই ছাত্রজনতাকে আর দমানো যাবে না। এখনো সময় আছে, আমি বলবো আপনারা ফিরে আসুন গণতান্ত্রিক ধারায়।
ইসহাক সরকার বলেন,আমি সারাজীবন সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমার ওপর যে দায়িত্বই অর্পণ করা হোক, আমি যেন তা ঈমান ও সততার সঙ্গে পালন করতে পারি। প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত আছি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এমন কাউকে দলে নেওয়া যাবে না, যার জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে সক্রিয় অবস্থান ছিল। তার মতে, এতে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে। তাই এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করছে দলটি। সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী পালিয়ে বা আত্মগোপনে রয়েছেন। তারাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য প্ল্যাটফর্ম বা মাধ্যম খুঁজছে।



