জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠন

চলমান জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণে সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো আলোচনা, যে কারও সঙ্গে করতে প্রস্তুত রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সভাপতি করে সরকারি দলের পাঁচ সদস্যের নামের কথা জানিয়েছেন।

বিরোধী দলকে পাঁচ সদস্যের নাম দিতে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় কমিটি গঠনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত বুধবার জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলে আলোচনা করে একমত হয়েছিলাম বা একটি বিষয়ে আমরা উপনীত হয়েছিলাম এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, সারা বিশ্বেই এই সমস্যার তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা উনার বক্তব্যে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ সেটি জানিয়েছেন এবং উনারা প্রস্তাব দিয়েছেন, উনাদের কাছে কিছু পরামর্শ আছে, সরকারি দল এবং বিরোধী দল একসঙ্গে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পারি।’

সংসদ নেতা বলেন, বিএনপি সব সময় দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো আলোচনা, যে কারও সঙ্গে করতে প্রস্তুত রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধী দলকে অনুরোধ করব, উনারাও যদি পাঁচজনের নাম দেন, তাহলে এই ১০ জন ব্যক্তি বসে এই বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পরামর্শ থাকলে এই কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসল এবং সেটার মধ্যে কোনো বাস্তবতা থাকলে অবশ্যই সেটি কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অন্য চার সদস্য হলেন-বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), মঈনুল ইসলাম খান এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করব উনাদের পক্ষ থেকে নামগুলো যদি দ্রুত আমাদের কাছে দেন, তাহলে কমিটি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবে।’

পরে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করি, এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাল্লাহ এবং আমরা মনে করি, এই সংসদের জন্য এটি একটি নবযাত্রা। এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং আমরা শিগগিরই ইনশাল্লাহ নাম প্রদান করব।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আশা করি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন। কারণ, এই সংসদ (অধিবেশন) এ মাসের শেষেই শেষ হবে। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশা সঞ্চার হয়েছে। সরকার এবং বিরোধী দল এইভাবে যদি সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হয়, তবে দেশের কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

মাগরিবের নামাজের বিরোতির পরে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। এই কমিটিতে সরকারি দলের পাঁচজন সদস্যের পাশাপাশি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও পাঁচজন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন ।

কমিটির জন্য প্রস্তাবিত বিরোধী দলীয় সদস্যরা হলেন, সাইফুল আলম খান (ঢাকা-১২), নুরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মোহাম্মদ আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) এবং মুফতি মাওলানা আবুল হাসান (সিলেট-৫)। পাশাপাশি দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত ‘লোড ম্যানেজমেন্ট’ বা লোডশেডিং কার্যক্রম জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকেই শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় লোড ম্যানেজমেন্টের যে প্রস্তাব এনেছেন, আমি বলব মেহেরবানি করে এটি যেন সংসদ ভবন থেকে শুরু হয়। সংসদ যেন এর বাইরে না থাকে। ঢাকার অন্য অংশে যদি এক ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে, তবে এখানেও যেন এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে।

তিনি আরও বলেন, এখান থেকে (সংসদ) যদি শুরু হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ বুঝবে যে আমরা আসলে বাংলাদেশকে একটি ইউনিফর্ম কান্ট্রি (সমমর্যাদার দেশ) হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছি। সাধারণ মানুষের কষ্টের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে সংসদকেও এই লোডশেডিংয়ের আওতায় রাখা উচিত।

এই প্রস্তাবের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ অধিবেশন তো চালু রাখতে হবে, সংসদ বন্ধ করা যাবে না। এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় মাইক নিয়ে বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমি সংসদ ভবনের কথা বলেছি, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ের কথা বলিনি। অধিবেশনের বাইরেও সংসদ ভবনের অনেক কার্যক্রম থাকে, আমি সেই সময়ের কথা বুঝিয়েছি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments