রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ গ্রিডে আসছে আগস্টে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ এপ্রিল। এরপর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষাশেষে আগামী আগস্টের শুরুর দিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

ডিসেম্বরে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটিতে পুরোদমে উৎপাদন চালু হওয়া প্রাথমিক সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প সূত্রে এ বিষয়টি জানা গেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন গতকাল শুক্রবার জানান, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ঠিকাদার রোসাটম আগামী ২৮ এপ্রিল ফুয়েল লোডিং শুরু করবে। ফুয়েল লোডিংয়ের সময়েও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান থাকবে।

সব পরীক্ষা শেষে আগস্টের শুরুর দিকে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে এই ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। প্রভিশনাল বা পরীক্ষামূলক সময়শেষে রাশান প্রকৌশলীরা এই ইউনিটের পরিচালন কার্যক্রম দেশীয় প্রকৌশলী দলকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

প্রকল্পে কর্মরত এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে এখনও ১০ মাসের মতো সময় লাগবে। এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিটও চালু হয়ে যাবে।

এর আগে গত ১২ মার্চ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৭ এপ্রিল ফুয়েল লোডিংয়ের শুরু হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কমিশনিং লাইসেন্স প্রদানে বিলম্বের কারণে ফুয়েল লোডিংয়ের তারিখ পিছিয়ে যায় বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে কেন্দ্রটির সাধারণ চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালেই এর প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে গত কয়েক বছরে রূপপুর প্রকল্পের কাজ একাধিকবার পিছিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের পর মার্চেই প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত আরও কিছু কাজ বাকি থাকায় মার্চে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

২০১৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লি ও পানি শীতলকারী ডোমের কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন।

২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও করোনা মহামারির জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরো বিলম্বিত হয়।

এদিকে গত বছরের মার্চে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২.৯১ টাকা।

সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদের পর খরচ বেড়ে হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে বৃদ্ধি এবং কিছু উপখাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখানো হয়েছে।

করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার সংকট প্রকল্পের বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি করে। ফলে ২০২৫ সালের ৩ জুন দুই দেশের ৯০তম যৌথ সমন্বয় সভায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, রূপপুরের ইউনিট-২-এর প্রাথমিক হস্তান্তর ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়। ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments