জামায়াত সমর্থক ব্যবসায়ীর দুই আঙুল বিচ্ছিন্ন

রাজশাহীর চারঘাটে সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে রামদার কোপে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীর দু’টি আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারঘাট থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি মাজিদুল ইসলাম মিন্টু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

তবে পুলিশ বলছে, আসামি মিন্টু পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিন্টুর দাপটে পুলিশও অসহায়।

ভুক্তভোগী জামায়াত সমর্থক ব্যবসায়ী আল-আমিনের (৩২) বাড়ি চারঘাট পৌরসভার পূর্ব আস্করপুর মহল্লা। সরদহ বাজারে তার মেসার্স আল-আমিন সাইকেল স্টোর অ্যান্ড হার্ডওয়্যার দোকান রয়েছে। ২৬ এপ্রিল নিজ দোকানে প্রথম দফায় এবং চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় দফায় মিন্টুর নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় হামলায় দু’টি আঙুল বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় মিন্টুসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আল-আমিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস।

আল-আমিনের সহোদর ইসাহাক বলেন, ‘রামদার কোপে আল-আমিনের বাম হাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বৃদ্ধাঙ্গুলের বেশির ভাগ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে ঝুলছিল। বাম হাতের কনুইয়ে পড়েছে ১২টি সেলাই। ডান হাতের কনুইয়ে পড়েছে ৬টি সেলাই। ডান পায়ের হাটুতেও রামদার কোপের চিহ্ন রয়েছে। পিঠে ৫টিসহ আরও ১৫টি সেলাই। বাম পায়ের বিভিন্ন অংশে রয়েছে আরও আঘাতের ক্ষত।’

জানা গেছে, সরদহ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিন্টু উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। মামলায় মিন্টুর বোন নাজমিন আরা মায়া, দুই ভাগনে নাফিউল ইসলাম মেগাবাইট ও জুলকার নাঈম মনিটর; দেওয়ান, শাহিন আলম বোল্টে, সুরুজ ও আপেলকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ মায়া ও শাহিন আলম বোল্টেকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে তারা আদালতে গিয়েই জামিন পেয়েছেন। প্রধান আসামি মিন্টু এলাকায় প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল দুপুরে মিন্টুর ভাগনে মেগাবাইট জিআই পাইপ নিতে আল-আমিনের দোকানে যান। আল-আমিন তখন খাবার খাচ্ছিলেন। তাই ক্রেতাকে তিনি অপেক্ষা করতে বলেন।

ক্রেতা তাড়াহুড়ো করলে আল-আমিন তাকে অন্য দোকানে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত ক্রেতা মেগাবাইট দোকানের জিআই পাইপ দিয়ে আল-আমিনের মাথায় আঘাত করেন। তখন আল-আমিনও তাকে মারধর করেন। পরে আল-আমিনকে তার সহোদর ইসাহাক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে মিন্টু দলবল নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের বেডে থাকা আল-আমিনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। তারা যাওয়ার পর আল-আমিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওই রাতেই তাঁকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে ফিরলেও আল-আমিন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

আল-আমিন জানান, তারা জামায়াতের সমর্থক। মিন্টুর দুই ভাগনে আগে ছাত্রলীগ করতো। আওয়ামী লীগের আমলে তারা চাঁদাবাজি করতো। ৫ আগস্ট থেকে নির্বাচন পর্যন্ত তাদের উৎপাত কমছিল। নির্বাচনের পর তারা আবার চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু তিনি চাদা না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল।

ইসাহাক আলী জানান, ‘মিন্টুর বোন মায়া সরদহ বাজারে এক ব্যক্তির দোতলা বাড়ি দখল করেছেন। ওই বাড়িতে মিন্টু ও তার বাহিনীর টর্চার সেল রয়েছে। সেখানে বিচার-সালিসের নামে মানুষকে এনে নির্যাতন করা হয়। অথচ পুলিশ মিন্টুকে ধরছেই না।’

চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আত্মগোপনে থাকায় মিন্টুসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।’ মোবাইলে যোগাযোগ করলে মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে আল-আমিন আমার ভাগনেকে মেরেছে। তাই হাসপাতালে গিয়ে তাকে একটু মেরেছি। এটা নিয়ে সবাই মিলে এত ফোন করলে হয়!’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments