রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করার সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই সময়ে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষন করলে তাদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। গতকাল সোমবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এটিই ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীতে পুলিশের যেকোনো অপারেশনে অপরাধীদের লক্ষ্য করে প্রথম গুলির ঘটনা।

পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেল দিয়ে রাতের অন্ধকারে রাজধানী জুড়ে ঘুরে ঘুরে ছিনতাই করতো। অটোরিকশা যাত্রী ও পথচারীদের মোবাইলসহ মালামাল ছিনতাই করে পালিয়ে যেতো। চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও খেলনা পিস্তল এবং ছিনতাই করা বিভিন্ন মডেলে ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পলাশ ও সাকিব। তারা সহোদর। তারা গাজীপুর জেলার টঙ্গি পূর্ব থানার হেমাদিঘী টিএনটি মোল্লা গ্যারেজ এলাকার লোকমান সরকারের ছেলে। এছাড়াও গ্রেফতার হওয়া আরেক ছিনতাইকারী বিপ্লব হোসেন তাদের আপন বোন জামাই।
পুলিশ জানায়, ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলে করে ছিনতাই করছিলো। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা মোহাম্মদপুর এলাকার দিকে দৌঁড়ে পালায়। পুলিশ তাদের পিছু নিলে মোহাম্মদপুর টাউনহল এলাকায় গিয়ে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর আক্রমন করে। পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি করলে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের খবরে থানায় ছুটে আসেন পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিন। তিনি দুদিন আগে ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে অটোরিকশা দিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় পিছন থেকে একটি কালো রঙের মোটরসাইকেল এসে আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। আমি তাদের ধাওয়া করেও ধরতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমার রিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেল ধাক্কা লেগেছে। আমার ব্যাগ মনে হয় মোটরসাইকেলের সঙ্গে লেগে গেছে। কিন্তু মুহুর্তের মধ্যেই দেখলাম আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে চলে গেছে। আজকে ছিনতাইকারী ধরার খবরে থানায় এসেছি আমার ফোন উদ্ধার হয়েছে কিনা। কিন্তু এসে পাইনি।
এ ঘটনায় রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি প্রশাসন) মীর আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা গতকাল রাত থেকে মোটরসাইকেলে করে ছিনতাই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছিলাম। আজকে ভোরে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করছিলো। আমরা তাদের ধাওয়া করলে তারা মোহাম্মদপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পরে তাদের ধাওয়া করে মোহাম্মদপুর টাউনহল পর্যন্ত পৌঁছালে তারা পুলিশের ওপর আক্রমন করে। ছিনতাইকারী চক্রের মোট ৫ জন ছিলো। আমরা এ সময় ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি করলে এক ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।
তিনি আরও বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা এক পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে পলাশ ও সাকিব আপন দুই ভাই। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া আরেক শীর্ষ ছিনতাইকারী বিপ্লব তাদের আপন বোন জামাই।



