দীপু মণি-মোজাম্মেল বাবু-ফারজানা রূপা কারাগারে

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মণি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারাজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারপতি মো. গোলাম মুর্তজা মজুমদারের নের্তৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনজনকে হাজির করা হয় ট্রাইব্যুনালে। পরে হাজতখানা থেকে তাদেরকে নেওয়া হয় কাঠগড়ায়। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মন্ডল।

প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওইদিন শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাদের পরিচয় আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। এর মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এছাড়া পরদিন তথা ৬ মে নারায়ণগঞ্জে নিহত হওয়া ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, কুমিল্লায় একজনসহ মোট ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

গত ৮ মে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে নারকীয় হত্যাকান্ডের পর ‘সমীকরণ’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিলো একাত্তর টেলিভিশনে। ওই প্রতিবেদনে এমন ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যে, শাপলা চত্ত্বরে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, এ মামলার তদন্তে আমরা কিছু নতুন তথ্য পেয়েছি।

এরমধ্যে ‘সমীকরণ’ নামের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের ফারজানা রূপা। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণির একটি সাক্ষাতকার পাওয়া যায়।

এছাড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুরও সংশ্লিষ্টতা আমরা পেয়েছি। প্রতিবেদনটি প্রচার করা হয়েছিলো ঘটনার পরপরই। যেখানে সারা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটল। আর সেই ঘটনাটি একেবারেই ভিন্নখাতে নিতে তিনি কিছু বিতর্কিত মানুষের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলেন ফারজানা রুপা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্ত্বরের প্রকৃত ঘটনাকে আড়ালের ক্ষেত্রে মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার অনন্য ভূমিকা ছিলো। মৃত্যুর তত্য লুকাতেও তারা চেষ্টা করেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাকের মধ্যেই ছিলো।

তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন। কারন তাদের প্রচারিত প্রতিবেদনে একেবারেই কোন সত্যতা ছিলো না। সাক্ষাতকার নেওয়া ব্যক্তিরা খুব বিতর্কিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments