বাঁচানো গেল না কারিনাকে, আজ মরদেহ আসবে

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনাকে আর ফেরানো গেল না। পিতার মর্মস্পর্শী অন্তঃক্ষরণ আর কাছের দূরের স্বজনদের বুকে স্মৃতির রুমাল গুঁজে দিয়ে লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। কারিনার বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তার দাদি।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর গত শুক্রবার দিবাগত রাতে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গণমাধ্যমকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
এ ছাড়া গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই
বাঁচানো গেল না

খেলোয়াড়ের একটি স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে শোবিজ অঙ্গনে।

বাবা-মেয়ের একটি হাসিখুশি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

স্ট্যাটাসে কায়সার হামিদ আরো লেখেন,

‘আমার মেয়ের কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’

কারিনার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন হয়ে উঠেছে শোকবই। শোকে স্তব্ধ শোবিজ অঙ্গন। অনেকেই কারিনার সঙ্গে বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতি পোস্ট করছেন ফেসবুকে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সহকর্মী, বন্ধু, নির্মাতা ও ভক্তরা।

এদিকে কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার তার মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে না। সব প্রক্রিয়া শেষে আজ রবিবার দেশে আনা হবে।

কায়সার হামিদ বলেন, ‘প্রিজার্ভ-সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষে গতকাল (শনিবার) বেলা ৩টার ফ্লাইট ধরা সম্ভব হয়নি, তাই আজ রবিবারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।’

কায়সার হামিদ বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে আর বাঁচানো গেল না।’

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে

সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিস্টিয়ান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখায়ও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments