মুগদার উদ্ধার সাত টুকরো লাশটি প্রবাসী মুকাররমের

রাজধানীর মুগদায় বহুতল ভবনের বেজমেন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া সাত টুকরো মাথাবিহীন মরদেহটির পরিচয় মিলেছে সৌদি প্রবাসী মুকাররম হোসেন হিসেবে। ভয়ংকর এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরকীয়া সম্পর্ক, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরিকল্পিত হত্যার ভয়াবহ এক জাল উন্মোচিত হচ্ছে ধীরে ধীরে।

রোববার দুপুরে মান্ডা ১ম গলি, আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর শাহনাজ ভিলার বেজমেন্ট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সাত টুকরো খণ্ডিত মরদেহ। তবে মরদেহের মাথা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকদিন ধরে বেজমেন্ট এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ টের পেলেও প্রথমে বিষয়টির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারেননি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মুগদা থানা পুলিশ। বেজমেন্টের অন্ধকার কোণে পড়ে থাকা পলিথিন খুলতেই বেরিয়ে আসে বিভৎস দৃশ্য। মানুষের দেহ সাত টুকরো করে কেটে আলাদা আলাদা পলিথিনে মোড়ানো ছিল। মরদেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার পর অন্তত ছয় দিন ধরে মরদেহটি সেখানে পড়ে ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুকাররম সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফেরার পর এক নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী ও তার এক বান্ধবী পরিকল্পিতভাবে মুকাররমের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘটনার দিন মুকাররমকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ ৮ টুকরো করা হয়। পরিচয় গোপন ও তদন্ত ভিন্নখাতে নিতে মাথা আলাদা করে গুম করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। পরে মরদেহের সাতটি অংশ বস্তাবন্দি করে শাহনাজ ভিলার বেজমেন্টে ফেলে রাখা হয়।

মুগদা থানার তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দেহ যেভাবে খণ্ডিত করা হয়েছে এবং আলাদা পলিথিনে মোড়ানো হয়েছে, তাতে বোঝা যায় খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করেছে।

ঘটনার পর ভবনজুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্ক। অনেক বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন ধরেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে কেউ কল্পনাও করেননি, বেজমেন্টে পড়ে আছে খণ্ডিত মানুষের লাশ।

পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। কারা রাতে ভবনে প্রবেশ করেছে কিংবা বের হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা যাচাই এবং ডিএনএ পরীক্ষার কাজও চলছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments