এবার এলিট ফোর্সকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর জন্য তৈরি করা হচ্ছে নতুন আইন। বিদ্যমান এলিট ফোর্স হিসাবে কাজ করছে র্যাব। তবে র্যাবের নাম অপরিবর্তিত রেখেই নাকি পরিবর্তন করে ঢেলে সাজানো হবে, সেবিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে খোলাসা করা হয়নি। জননিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে দেশে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তার কথা ভাবছে সরকার। এই জন্য র্যাবের কাজ গতিশীল করতে আরো ১৬৩ টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গুটি কয়েক কর্মকর্তার অপরাধের দায় পুরো বাহিনীর ওপর পড়তে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সম্পূর্ণ অ্যাডহক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে র্যাব পরিচালিত হচ্ছে, যা মোটেও ঠিক নয়। তাই আগামী দিনে সম্পূর্ণপে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার অধীনে এই এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে।
র্যাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার দুপুরে র্যাব সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ র্যাব থাকবে কি না এবং র্যাবের ভবিষ্যত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
মত বিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করা হবে কি না কিংবা সম্পূর্ণ নতুন কোনো এলিট ফোর্স গঠন করা হবে কি না, তা সরকার এখনো বিবেচনা করছে। তবে বাহিনীর রূপ যেটাই হোক না কেন, নতুন আইনে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং কাজের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘র্যাবের নিজস্ব কোনো আইন নেই। ব্যাটালিয়ানের একটি আইনে র্যাব এতদিন পরিচালিত হতো। এভাবে পরিচালিত হওয়া সঠিক ছিল না। এখন আমরা একটা আইন করব। আলাদা এলিট ফোর্সের জন্য, এখানে অথরিটি কে থাকবে, রেসপন্সিবিলিটিজ কী থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করা থাকবে। সেটার ভিত্তিতে এলিট ফোর্স পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা আইন করব, সে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স পরিচালিত করব। আমরা র্যাবের নাম রাখব কি না, নাকি অন্য নতুন ফোর্স গঠন করব কি না তা চিন্তা ভাবনার বিষয়। তবে অবশ্যই নতুন আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে।’
তিনি স্পষ্ট করেন, একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়া এভাবে চলতে পারে না বিধায় এর সংস্কার করে নতুন জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং র্যাবের সমস্ত সরঞ্জাম, লজিস্টিক ও জনবল সেখানে স্থানান্তরিত হবে।
র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত পতিত ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে শেখ হাসিনা সরকারকে একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কারণে র্যাবের ওপর আমেরিকা এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে গুটি কয়েক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় পুরো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।
পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি বা র্যাবের যে সমস্ত কর্মকর্তা বিপথগামী হয়েছিলেন, তাদের নিজস্ব আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার অনুশাসন অলরেডি দেওয়া হয়েছে। সরকার যখন আইন সংশোধন করে এলিট ফোর্সকে নতুন করে ঢেলে সাজাবে, তখন আমেরিকা এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নতুন এলিট ফোর্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ বা সকাল দেখেই দিন বোঝা যায়; বর্তমান সরকারের গত তিন মাসে কোনো বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম ও মিলিটারি ইন্টার্নাল ইনকোয়ারি বোর্ড বাতিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকের প্রশ্নটিকে ত্রæটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মামলা করেছেন এবং তিনি নিজেও মামলা করেছেন।
গুম কমিশন গঠনের চেয়ে আইসিটি আইন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এই আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সব ধরনের গুম, গুমের হুমকি বা নিখোঁজ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ব্যক্তি নিজে ভিকটিম হলেও এই আইনের অধীনে সরাসরি মামলা করতে পারবেন।
র্যাবের এই বিশেষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।



