আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা আয়োজনে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে দিবসটি উদযাপনে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন। ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি আনসার বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে এ বাহিনীর সদস্যরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২টি পূর্ণাঙ্গ মহিলা আনসার ব্যাটালিয়ন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নসহ (এজিবি) মোট ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।

পার্বত্যাঞ্চলে ১৬টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ‘অপারেশন উত্তরণ’ এ যৌথ ও একক ক্যাম্পে দেশের অখন্ডতা রক্ষা, পাহাড়ি বাঙালি স¤প্রীতি রক্ষা এবং সন্ত্রাস দমনে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পার্বত্যাঞ্চলের হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

সমতল এলাকায় আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় তোষাখানাসহ সমতল এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ মোবাইল কোর্ট ও ভেজাল বিরোধী অভিযান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, চোরাচালান রোধ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, মেট্রোরেল, পায়রা বন্দর, বিমানবন্দর, প্রেষণে এসএসএফ, র‌্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই এ দায়িত্ব পালন করছে।

বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি) এর সদস্যরা ক‚টনৈতিক জোন ও বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে এবং বর্তমানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তায় কাজ করছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ঈদ, পূজা-পার্বনসহ বর্ষবরণ, শপিং মল, বাণিজ্য মেলা ও বই মেলা, রেল স্টেশন, ট্রাফিক কন্ট্রোলসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাধারণ আনসার সদস্য-সদস্যারা জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে।

রাষ্ট্রপতির বাণী
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি এই বাহিনীর সকল স্তরের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় আনসার বাহিনীর পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি আইন, ১৯৯৫ প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাটালিয়ন আনসার গঠিত হয় এবং এতে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইনগত সাংগঠনিক ভিত্তি লাভ করে।

সেই অগ্রদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ আজ আনসার-ভিডিপি গ্রাম-বাংলার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেছেন, স¤প্রতি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে।

এই নির্বাচনে অন্যান্য বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যগণ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেজন্য বাহিনীর সদস্যদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি, একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার পথচলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে পাশে থাকবে।

তিনি আশা করে বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে এই বাহিনীর সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে এই বাহিনীর সদস্যদের সময়োপযোগী ভ‚মিকা উল্লেখযোগ্য। ফেব্রæয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশংসনীয় ভ‚মিকা পালন করেছে। তাদের দায়িত্বশীল ভ‚মিকার জন্য আমি এই বাহিনীর সর্বস্তরের প্রতিটি সদস্যকে আবারও অভিনন্দন জানাই।

বাণীতে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, তারুণ্যই শক্তির উৎস। যুবসমাজকে নিছক জনশক্তি নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপি যে সুনির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। স্বনির্ভরতা ও কর্মসংস্থানের এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে আনসার-ভিডিপি সহায়ক শক্তি হিসেবে কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে, এটিই আমার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসার-ভিডিপির গর্বিত সদস্যদের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে। বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস ও নিষ্ঠা হোক আগামী দিনের পাথেয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments