রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষনের ঘটনা লুকাতেই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রধান আসামী সোহেল রানা। শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সোহেল রানাকে গতকাল বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতে জবানবন্দি দেয় সোহেল।
সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তাকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এই ঘটনার পর শিশুটির বাবা বলছেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান বলেন, দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন, সোহেল তার জবানবন্দিতে তার বর্ণনা দিয়েছেন এবং ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন।গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি বøকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত শিশুটি। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে শিশুটির মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেসোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।
আদালত চত্বরে উত্তেজনা : গ্রেফতার সোহেল রানাকে গতকাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে তার শাস্তি দাবি করেন।এ সময় অনেকে উচ্চস্বরে শ্লোগান দিয়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবিও জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে।
বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সোহেল রানাকে আদালতে তোলা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ হতে পারে, যেখানে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে। মরদেহ লুকানোর উদ্দেশ্যে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।



