রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপরে তারা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন ডিএনএ প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ভিসেরা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, রবিবার আদলতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হতে পারে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্র তৈরির কাজ চলছে।
এদিকে, রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রæত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলা নং ৩৫, তারিখ ২০/০৫/২০২৬ খ্রি. ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ তৎসহ ২০১ পেনাল কোড রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
আসামী পক্ষে আইনজীবী অংশ নিচ্ছে না ঃ
অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে কোনো আইনজীবী আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। শিশুটির প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা ও অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঈদের পর বিচারিক কার্যক্রম শুরু ঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ডিএনএ প্রতিবেদন ঈদের আগে পাওয়া গেলে ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে ।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্রাক সেন্টার অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় রামিশা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে কতদিন সময় লাগতে পারে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে এক মাস সময় লেগেছিল।
এছাড়া ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলার উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে মামলায় একদিনেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যমান আইনের বিধান অনুসরণ না করে চার্জশিট দাখিল করা হলে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে ‘ফ্যাটাল ইনজুরি’ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ প্রমাণ। আমাদের যখন ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, তখন তা অবশ্যই করা উচিত।
মন্ত্রী জানান, সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস সময় লাগলেও রামিশা হত্যা মামলার রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হবে। তার আগেই যদি ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তাহলে ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের অংশ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিচারিক আদালত মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিলেও তা কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ সময় নেত্রকোনায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত¡া হওয়ার ঘটনাটি আইনমন্ত্রীর নজরে আনা হলে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার এটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েসসহ প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খÐিত লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। গত বুধবার সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সোহেল ও স্বপ্না বর্তমানে কারাগারে।



