‘১৬ মে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের ৭৫ বছর: পরিপ্রেক্ষিত ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে শুক্রবার রংপুর নগরীর নিউক্রস রোডস্থ গুপ্ত পাড়ায় জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন রংপুর জেলার আহ্বায়ক চিনু কবির। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সুমন ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কনক রহমান।
তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ব্রিটিশরা এদেশে যে শোষণমূলক জমিদারি ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, ১৯৫১ সালের ১৬ মে তার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে। তবে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও এর আমলাতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপ আজও রাষ্ট্র ও সমাজে বিদ্যমান রয়েছে।
নাহিদ হাসান বলেন, বর্তমান ডিসি বা কালেক্টর ভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো, হাট-বাজার ও জলমহালের ইজারাদারি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক লাঠিয়াল সংস্কৃতি এবং জনগণের ওপর অযৌক্তিক করের বোঝা—এসবই আধুনিক জমিদারির বহিঃপ্রকাশ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং নাগরিক মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা ও রাজনীতিবিদ আমিন উদ্দিন বিএসসি। তিনি বলেন, এখন জমিদারি ব্যবস্থা নাই কিন্তু এর শেষ হয়ে গেছে। রাজনীতিবিদ ও আমলারা নিজেদেরকে জমিদার মনে করে কৃষক শ্রমিকের আজ কোন অধিকার নাই তারা যেন প্রজা। এই জমিদারি ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ন্যায়পাল অ্যাডভোকেট রায়হান কবীর বলেন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের ৭৫ বছর পূর্তি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণের উপলক্ষ নয়; বরং বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে নতুন করে গণমানুষকে সংগঠিত করার আহ্বান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রংপুর জেলা সভাপতি কামরুল ইসলাম ও রাজনৈতিক সংগঠক আবদুল জব্বার, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের রংপুর জেলা সংগঠক কামরুল ইসলাম, শামীম ইসলাম, লাবিব আহমেদ, কবি মিঠুন আলম, কবি আহমেদ মওদুদ, লেখক ও সাংবাদিক মুফাখখারুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভা থেকে বক্তারা বলেন, আমরা কোনো জমিদার বা আমলার প্রজা নই; আমরা রাষ্ট্রের মালিক। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের ৭৫ বছরে আমাদের অঙ্গীকার হোক—রাষ্ট্র হবে জনগণের, যেখানে সেবা হবে অধিকার, করুণা নয়।



