চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বুধবার (৩জুন) সন্ধ্যার পরে নগরীর রায়ানস হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাদ রহমান বলেন, “কুড়িগ্রামের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
আদালত সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের যুগ্ম দায়রা জজ, ১ম আদালতে বিচারাধীন দায়রা মামলা নং-৩৮৪/২০২৪ (সূত্র: সি.আর.-৫৪/২০২৪) মামলায় গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোহাম্মদ নাজমুল হক।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, মোঃ ইয়াসিন আলী বাদীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। ওই অর্থ পরিশোধের জন্য তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, কুড়িগ্রাম শাখার একটি চেক প্রদান করেন।
পরে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে সেটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে আইনগত নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতে মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ইয়াসিন আলীকে The Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকে উল্লিখিত ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে রংপুর মহানগর পুলিশের একটি দল বুধবার সন্ধ্যার পরে নগরীর রায়ানস হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। তারই প্রেক্ষিতে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



