বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে যতগুলো ঘটনা রয়েছে তার মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত মারাদানোর হাত দিয়ে গোলের ঘটনা। এখনো যারা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেন তারা সেই গোল নিয়ে আলোচনা করে কুলকিনারা খুঁজে পান না। আগামীকাল শুরু হবে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। যাকে নিয়ে আলোচনা সেই মারাদোনা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও এখনো চলছে ৪০ বছর আগে ঘটনার সেই আলোচনা।
১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকোর বিখ্যাত অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি। সেই ম্যাচে ঘটেছিল অবিস্মরণীয় ঘটনা। ৮৬ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে দিয়েগো মারাদোনা মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে এমন দুটি ঐতিহাসিক গোল করেছিলেন, যা বিতর্ক তৈরি করে, একই সঙ্গে তার অলৌকিক প্রতিভাকে তুলে ধরে। একটি গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে কুখ্যাত।
উত্তেজনায় ঠাসা সেই ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ঠিক ছয় মিনিট পরই তৈরি হয় নাটকীয় মুহূর্ত। মারাদোনা আক্রমণ তৈরি করার সময় ইংল্যান্ডের ফুটবলার স্টিভ হজের পা থেকে বল উঁচু হয়ে বক্সের ভেতর চলে আসায় ভেবেছিলেন মারাদোনা হয় বলটি হেড করবেন, কিন্তু তিনি নিজের বাঁ হাত দিয়ে আলতো করে বল জালের দিকে ঠেলে দেন। ইংল্যান্ডের গোলকিপার পিটার শিলটনকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ায়। রেফারি হ্যান্ডবল দেখতে পাননি। ফলে গোল বহাল থাকে।
এই বিতর্কিত গোলের পর ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে রেফারির কাছে দৌড়ে যান, প্রতিবাদ জানান। কিন্তু লাভ হয়নি। ম্যাচের পরে এই গোল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মারাদোনা তার সেই বিখ্যাত মন্তব্যটি করেন, গোলটি একটু তার মাথা দিয়ে হয়েছে, আর একটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে হয়েছে। তবে অনেক বছর পর মারাদোনা স্বীকার করে নেন, গোলটি নিয়ম মেনে হয়নি। সেদিন প্রায় ৬০ গজ একা দৌড়ে মাত্র ১০ সেকেন্ডে একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে গোল করেন তিনি। পিটার বিয়ার্ডসলি, পিটার রিড, টেরি বুচার এবং টেরি ফেনউইকের মতো ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করেন।
তার পর গোলকিপার পিটার শিলটনকেও কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন মারাদোনা।
ম্যাচ শেষে মারাদোনার উদ্যাপন কিছুটা বেপরোয়া ছিল। তিনি দর্শকদের দিকে বারবার তার বাঁ হাত তুলে দেখাচ্ছিলেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাত তুলে ঘোষণা করেন, ‘এটা ঈশ্বরের হাত।’ বহু বছর পর তিনি বলেছিলেন, ‘মজা করছিলাম, ওটা আমারই হাত ছিল। আমার মাথা বল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছিল না, তাই হাত ব্যবহার করাই ছিল সবচেয়ে ভালো উপায় ছিল।’ সেদিন দূর থেকে স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার পুরো ঘটনাটি দেখেছেন।



