বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চারটি স্কিমে গত ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধন করেছেন।
এসব স্কিমে জমার পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮৬ কোটি টাকা। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় শুরুতে ‘প্রবাস’, ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’ ও ‘সমতা’ এই চারটি স্কিম চালু করা হয়। পরে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘প্রত্যয়’ স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে অংশীজনদের বিরোধিতার মুখে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
দেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর-পরবর্তী কোনো আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি পেনশন সুবিধা পেলেও বেসরকারি খাতে এ ধরনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে, এই শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্কিমটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত। প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হলে মাসিক চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বহন করবে। মাসিক চাঁদার পরিমাণ ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।
অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা পাওয়া যাবে। মাসিক চাঁদায় আয়কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন আয়করমুক্ত থাকবে। ৬০ বছর পূর্তির পর কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়া হবে।



