হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত শুরু

রংপুরের  জিআই পন্য ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার একটি আম বাগানে দুপুরে বাগানে আম আহরনের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন এর উদ্বোধন করেন।

ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত করনের প্রথম দিনেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগমে বেশ জমে উঠেছে বাজার। এখানে প্রতি মন আম গতকাল সোমবার বিক্রি হয়েছে ১২‘শত  টাকা থেকে ১৮শত টাকা দরে। এ বছর ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার বেশি হাঁড়িভাঙা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আম চাষী ও ব্যাবসায়দের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয় রংপুরের জেলা প্রশাসক এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসক পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করেন।

মতবিনিময় সভায় আম চাষী ও ব্যাবসায়ীগন আমের বাজারজাত করন বিষয়ে বিদ্যমান সমস্য সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার, ব্যাংকিং সুবিধা সম্প্রসারন, হাটে ওয়াশবøক, স্থায়ী সেড ও বিশেষায়িত হিমাগার নির্মান, বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু এবং জিআই পণ্য হিসেবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত ও রপ্তানীর বিশেষ সুবিধা প্রদানের দাবী জানান।

রংপুর কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁড়িভাঙা আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। পাকা আম মাঝারি মাত্রার সুগন্ধ ছড়ায়। বর্তমানে রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর,
তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, পীরগাছা ও কাউনিয়া সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় হাঁড়িভাঙা আম চাষের বিস্তার ঘটছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম বলেন, মিঠাপুকুরে প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় লোকজন ধানি জমিতে আমের বাগান করছেন। ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ৭৫টি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান আছে। গত বছর ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার বেশি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সব মাটিতে এ আমের চাষ করা যায়। তবে এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি এই আম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এক একর জমিতে বছরে সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়। মাঝারি প্রতিটি গাছে সার ও কীটনাশক বাবদ বছরে খরচ হয় ৫০০-৬০০ টাকা। পাঁচ বছর বয়সী প্রতিটি গাছের আম বিক্রি করে গড়ে চার হাজার টাকা পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, এবারে প্রতিকুল আবহাওয়ায় আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে চাষীরা আমের দাম ভাল পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments