নিরাপত্তার ঘেরাটোপ সরকারকে দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার বলয় যেন সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন,সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা।নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি বিশেষায়িত ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহŸান জানাই।

তিনি বলেন,আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন।গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা রাখছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নতুন ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং সেখানে একটি প্রদর্শনী মহড়া দেখেন।

এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহিনুল হক, চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মতিউর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভ‚-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন ও আছেন সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।

এসএসএফ এর অসাধারণ ভ‚মিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments