প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর মালয়েশিয়া ও চীন সফর আজ থেকেই শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর, ফলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ঢাকা ছেড়ে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন দুপুরে তিনি সেখান থেকে সরাসরি চীন–এর দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। চীনে তাঁর কর্মসূচি চলবে ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য তিনটি—মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে গতি আনা, চীন থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো অর্থায়ন টানা, এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা।
বিশেষ করে চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হতে পারে বলে সরকারিভাবে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া পর্ব: শ্রমবাজার ‘এক নম্বর এজেন্ডা’
সরকারি ব্রিফিং অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ ও সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণের প্রশ্ন। ঢাকার প্রত্যাশা, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন করে কর্মী নেওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং দীর্ঘদিন ধরে থাকা নানা জটিলতা নিরসনে রাজনৈতিক অগ্রগতি হবে।
একই সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগ খাতে সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় থাকবে। পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, এ সফরে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)–সংক্রান্ত দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সফরের আরেকটি তাৎপর্য হচ্ছে, ঢাকার পক্ষ থেকে আসিয়ানের ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টা এবং আরসিইপি–তে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ সামনে তোলা। কূটনৈতিক মহলের মতে, মালয়েশিয়ার সমর্থন পেলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রবেশ ও কৌশলগত অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা বাড়তে পারে।
চীন সফরে কী কী হতে পারে
চীন সফরের প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার দাভোস’ বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর তিনি বেইজিংয়ে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং–এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন
সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে—
সবুজ জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যান, মিডিয়া সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়নসংক্রান্ত সমঝোতা; মংলা বন্দর আধুনিকীকরণে সহযোগিতা; বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ ১,০০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে অগ্রগতি; বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, পাওয়ার গ্রিড শক্তিশালীকরণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রাজশাহী ওয়াসার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং জাহাজ সংগ্রহসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে অর্থায়নের অনুরোধ; চীনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল–সংক্রান্ত অগ্রগতি; এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা।



