রৌমারী সীমান্তে ২ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন করা বাংলাদেশি নাগরিকদের ফের দুইজ‌নের খোঁজ মিল‌ছে না। 

প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই যুবক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। বি‌জি‌বি বল‌ছে, ওই দুই যুবক কোথায় গে‌ছেন সে বিষ‌য়ে তারা কিছু জা‌নে না। নি‌খোঁজ হওয়ার ঘটনায় সীমা‌ন্তে নতুন ক‌রে উদ্বে‌গের সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

অন্যদিকে একই উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে এখনও খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন পুশইনের শিকার আরো তিন যুবক।

জানা গে‌ছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ১টার দিকে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। পরে বিজিবি খোঁজাখুঁজি চালালেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নিখোঁজ দুই ব্যক্তি হলেন- ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে মো. সজিব হোসেন (২৫) এবং একই গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে মো. হিমেল মিয়া (১৮)।

এদিকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা আরো তিন যুবক অবস্থান করছেন। 

তারা হলেন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের নাঈম মিয়া (২২)।

এর আগে গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় বিএসএফ নয় বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।

এর মধ্যে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা এবং বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বেরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার, পাঁচ বছর বয়সী কন্যা ফাতেমা এবং পাঁচ মাস বয়সী শিশু ফাহিমাকে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে মানবিক বিবেচনায় তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি ছিলেন সজিব ও হিমেল। তবে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তাদের আর ওই স্থানে দেখা যায়নি।

অপরদিকে, শৌলমারী ইউনিয়নের ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থানরত জহিরুল, পারভেজ ও নাঈমের বিষয়ে জানা গেছে তারা গত ১০ জুন তারা সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে সুলতান নামের এক দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের গৌহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণকালে তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন।

পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা গত ১৪ জুন ভোরে জিনজিরা নদীর ব্রিজের নিচ দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৬/৭-এস সংলগ্ন এলাকায় খোলা মাঠে অবস্থান করছেন।

এ বিষ‌য়ে গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ (বুধবার) সকাল থেকে সীমান্তে অবস্থানরত ওই দুই ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে না। তবে তারা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments