আশুলিয়ায় নিখোঁজের চার দিন পর তুরাগ নদী থেকে ছাত্রলীগের কর্মী সুমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে আশুলিয়ার তুরাগ নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থানীয়রা পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সুমন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন আগে ঢাকায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সুমনের সঙ্গে তাদের শেষবারের মতো কথা হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল বলে স্বজনরা জানান।
শুক্রবার সকালে তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে—এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি সুমনের বলে শনাক্ত করেন। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুমনকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সুমনের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।



