মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ‘অভ‚তপূর্ব সাফল্যের’ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলা আলমগীরের আনা প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এসময় তারেক রহমান অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।
প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, দেশের মানুষ তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব সরকারকে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি ¯েøাগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’। আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তার অনুপস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পর সফরের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এসময় স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে, পররাষ্ট্রনীতিকে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন আপনি এই সফরের মাধ্যমে।’ পরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়েলকাম ব্যাক টু দিজ পার্লামেন্ট।’
এরপর বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন। সংসদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতিকে তিনি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না। তিনি বলেন, এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নেই। এটি যদি কোনো ভালো অর্জন হয়ে থাকে, এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি দেশের মানুষের অর্জন।
সংসদের সব সদস্য, বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। সেজন্য আমি সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন: মির্জা ফখরুল
এর আগে মির্জা ফখরুলের আনা প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভ‚তপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’
প্রস্তাবটি উত্থাপন করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এ সফরে অনেকগুলো চুক্তি করেছেন। দুই দেশের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, চীনের সঙ্গে ১৭টি এমওইউ হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। এ দুই দেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অক্ষুন্ন ভ‚মিকাা রাখবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলনে, আমাদের যে সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে চেষ্টা করবেন। এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী কালচারাল পরিবর্তন শুরু করেছেন: অর্থমন্ত্রী
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালচারাল পরিবর্তন শুরু করেছেন। তিনি যাওয়া বা আসার সময় বিমানবন্দরে হাজার লোকের সংবর্ধনা নেননি। এটি বিরাট কালচারাল পরিবর্তন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিটি দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে। কারো হস্তক্ষেপ থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর সফর সেটাই প্রমাণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সফরে যে বেঞ্চমার্ক স্থাপন করেছেন, এটা আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু নয়, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে, সেটাও নিশ্চিত করেছেন।
যত চুক্তি হবে, স্বচ্ছতার স্বার্থে সংসদে নিয়ে আসা ভালো: বিরোধীদলীয় নেতা
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই, বাস্তবায়ন করতে চাই। এক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয় আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করছি আমরা সকল সহযোগিতা করবো।
মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ। আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। আমাদের রপ্তানির দুই মূল খাত তৈরি পোষাক ও ম্যানপাওয়ার। এখানে বৈচিত্র্য আনার যথেষ্ঠ সুযোগ আছে। সেজন্য সংক্ষিপ্ত, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।
শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে দুটি দেশের মধ্যে আলোচনা করেছেন। অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যত চুক্তি হবে, সেগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে সংসদে নিয়ে আসা ভালো হবে। তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনও মেনে নেব না। দেশের স্বার্থ আগে। সমঝাতা স্বারক বা চুক্তি যাই হোক, সেটা হবে দুই দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে।



