বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক সময় বড় অঘটনের শঙ্কায় পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে রাউন্ড অব ১৬ নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ব্রাজিলের। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও রাফিনিয়ারা একের পর এক আক্রমণ চালালেও জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং গোলরক্ষক জিওন সুজুকির দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না ব্রাজিল। উল্টো দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদ তৈরি করছিল জাপান।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে কাইশু সানো জাপানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ব্রাজিল আক্রমণের গতি বাড়ালেও প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে পারেনি। বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জাপান।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কোচ কার্লো আনচেলত্তি কৌশলগত পরিবর্তন এনে দলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তোলেন। তার ফল মেলে ৫৬তম মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের বাড়ানো বলে কাসেমিরো শক্তিশালী হেডে গোল করে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান।
সমতায় ফেরার পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও রাফিনিয়ার আক্রমণে চাপে পড়ে যায় জাপান। তবে জাপানের রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দৃঢ়তা ধরে রাখে।
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখনই যোগ করা সময়ের ৯৫তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি জোরালো শটে জালের দেখা পান। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
এই জয়ে বিশ্বকাপে টানা শেষ ষোলোয় ওঠার ঐতিহ্য ধরে রাখল ব্রাজিল। অন্যদিকে, দুর্দান্ত লড়াই করেও নকআউট পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো জাপানকে। শেষ ষোলোতে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে Ivory Coast ও Norway ম্যাচের বিজয়ীর।
গোলদাতারা
২৯ মিনিট: কাইশু সানো (জাপান) – ০-১
৫৬ মিনিট: কাসেমিরো (ব্রাজিল) – ১-১
৯৫ মিনিট: গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (ব্রাজিল) – ২-১



