রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ১০ বছর পূর্তিতে গতকাল বুধবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। জঙ্গিবাদবিরোধী অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নিহতদের স্বজনরা শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্থোনিও আলেসান্দ্রোর বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ তাদের দেওয়া হবে না।
এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে একটি নামফলকের সামনে ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় কূটনৈতিক কোরের ডিন ও বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এসওয়াই রামাদান, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্থোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপ মিশন প্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সন্ত্রাসী হামলা ছিল মানবতার ওপর এক নৃশংস আঘাত। রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো অজুহাতেই সন্ত্রাসবাদকে কখনোই সমর্থন করা যায় না। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অবিচল রয়েছে।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, এক দশক পেরিয়ে গেলেও ওই হামলার ক্ষত এখনো অমলিন। তিনি নিহতদের স্মরণ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইলেও বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সংহতি আরও দৃঢ় হয়েছে। ইতালির প্রেসিডেন্টের বার্তাও অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পৃথক এক কর্মসূচিতে বলেন, দেশে সহিংসতা, উগ্রবাদ ও ফ্যাসিবাদী সব ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, হলি আর্টিজান হামলার পর জঙ্গিবাদ দমনে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংগঠিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। তবে অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী প্রচারণা ও নতুন সদস্য সংগ্রহের অপচেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে পাঁচ জঙ্গি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে বিদেশিসহ ২২ জনকে হত্যা করে। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়। হামলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। ওই ঘটনার পর দেশের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।



