কেইনের জোড়া গোলে বিদায় কঙ্গো, শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ সময় জুড়ে অঘটনের গন্ধ ছড়িয়েছিল ডিআর কঙ্গো। শুরুতেই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ করেও সমতায় ফিরতে পারছিল না থমাস টুখেলের দল। তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতাই পার্থক্য গড়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় এনে দেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা। পরের পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চমকে দেয় ডিআর কঙ্গো। সপ্তম মিনিটেই ইংলিশ রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা গোল করে আফ্রিকান দলকে এগিয়ে দেন। অপ্রত্যাশিত এই গোলে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে, আর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে কঙ্গো।

গোল হজমের পর থেকেই বলের দখল নিয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও হ্যারি কেইন কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি দুর্দান্ত সব সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।

এক পর্যায়ে কেইন পেনাল্টির আবেদন করলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় সেটি নাকচ হয়ে যায়। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ডিআর কঙ্গো।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ইংল্যান্ড। টুখেলের পরিবর্তনগুলোও খেলায় গতি আনে। তবে কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোলের দেখা মিলছিল না।

অবশেষে ৭৫তম মিনিটে প্রতীক্ষার অবসান হয়। বাম প্রান্ত থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রসে হেড করে সমতায় ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গোলের পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায় এবং তারা জয়ের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে।

সমতায় ফেরার পরও ডিআর কঙ্গো পাল্টা আক্রমণে ওঠে এবং একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন কেইন। দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় বক্সের ভেতরে ঢুকে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ কয়েক মিনিটে ডিআর কঙ্গো মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময়ে লড়াই করে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।

এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ধৈর্য, অভিজ্ঞতা এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইনের অসাধারণ নৈপুণ্যে জয় ছিনিয়ে নেয় ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments