আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ছেড়েছে স্পেন। আর্জেন্টিনার গোলপোস্টে ১৬টি শট করেছে স্পেন। ১১টা শট পোস্টে গেছে। আর আর্জেন্টিনা ১২৮ মিনিটে দুই বার স্পেনের গোলপাস্টে হানা দিয়েছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে মেট লাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
আর এই মাঠেই রূপকথার গল্প লিখেছে স্পেন। ভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন পিকে, পুয়েল, জাভি, রামোসরা। তাদের উত্তরসুরীদের খেলা দেখে বার বার লাফিয়ে উঠেছেন। তারা বুঝতে পারছিলেন আর্জেন্টিনারনেগেটিভ ট্যাকটিস ভুল পথে নিয়ে গেছে।
আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের খেলা দেখে মনে হয়েছে ক্লান্ত। রণক্লান্ত। ফুটবল যুদ্ধে গিয়ে এমন পরিশ্রান্ত ফুটবলাররা যুদ্ধে সফল হতে পারে না, তাগলিয়াফিকো, ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, নিকো গঞ্জালেজ, লিও মেসি, জুলিয়ান আলভারেজরা পারেননি। কোনো রকমে ম্যাচটা টাইব্রেকিংয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এমন ফাইনাল আর হয়েছিল কিনা জানা নেই। একতরফা লড়াই আর কেউ দেখেনি। একপেশে ফুটবল, এক দল খেলছে আর অন্য দল দেখছে। স্পেনের ফুটবলের কাছে আর্জেন্টিনা অসহায় হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবল ফাইনালে যা হয়েছে তাতে স্পেনের গল্পই লিখতে হয়। আর্জেন্টিনার কাছে স্পেন যেন ফুটবলের শিক্ষক হয়ে গিয়েছিল।
পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে ১০৪টা ম্যাচ। একটা ম্যাচও এমন হয়নি। প্রতিটা ম্যাচ ছিল উত্তপ্ত। আগুনঝরা ম্যাচ। কেপ ভার্দে, কুরাসাওয়ের মতো দলও প্রত্যেক ম্যাচ লড়াই করে বিদায় নিয়েছিল।
নেইমারের ব্রাজিল, রোনালদোর পতুর্গাল হালান্ডের নরওয়ে, এমবাপ্পের ফ্রান্স, কিংবা হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড, একে একে সবার বিদায়ের মিছিলে থাকার মধ্যেও বিশ্বকাপে মশাল হাতে এগিয়ে যাচ্ছিল মেসির আর্জেন্টিনা। সেই আর্জেন্টিনাকে অসহায় বানিয়ে দিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল।



