অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ; সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়েছে।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর স্পিকারই দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সেই কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।
এরপর কী হবে
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত ব্যক্তি শপথ গ্রহণের পর দায়িত্বভার বুঝে নিলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হবে।
যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, তাই সংসদের প্রতিনিধিদের ভোটেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত হবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা
সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা; নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করলেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের অবসান হবে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, আইন অনুমোদন, অধ্যাদেশ জারি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথারীতি চলমান থাকবে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে না।
মো. সাহাবুদ্দিন
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি বিচার বিভাগ ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পাদন করেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন সবার দৃষ্টি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি—সেদিকে।



