বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে ২০২৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে রংপুরে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের তথ্য, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর তত্ত্বাবধানে এসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে ডিবির একটি বিশেষ দল নজরদারি শুরু করে। রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশের সময় আশরাফুল ইসলাম (২১) নামে এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহ হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল বলে স্বীকার করেন তিনি।
একই সময় তার পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমান (১৯)-কেও আটক করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা কার্যালয়ের কর্মচারী বাদশা মাসুদ আলম (৪৮) ও নুরুল ইসলাম (৪৬)-এর মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেন তিনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তার কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিয়োগের নিয়ম অনুযায়ী আশরাফুল কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। এরপরও জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসুদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসুদ আলম জানান, নুরুল ইসলামসহ আরও ২ থেকে ৩ জন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রের সদস্যরা জাল প্রবেশপত্র তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করত।
পরবর্তীতে আরপিএমপি কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



