সিলেট-জাফলং রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে পর্যটনের চিত্র

বর্ষার সৌন্দর্যে মুখর পাহাড়-হাওর; অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল সিলেটের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এ লক্ষ্যে শনিবার তিনি একটি কারিগরি দল নিয়ে সম্ভাব্য রেলপথের এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত রেললাইনটি সিলেট রেলস্টেশন থেকে সুরমা নদী অতিক্রম করে পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বমানের। পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরও বেশি পর্যটক আসবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

এদিকে বর্ষার রূপে সেজেছে সিলেট। রোদ-বৃষ্টি আর মেঘের লুকোচুরিতে পাহাড়, নদী, ঝরনা ও হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। জাফলং, লালাখাল, রাতারগুল, বিছানাকান্দি, টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারিক টিলা, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন উপচে পড়া ভিড়।

বর্ষার টইটম্বুর হাওরে হাউজবোটে ভ্রমণ, পাহাড়ঘেরা নদীতে নৌবিহার, সবুজ চা-বাগান আর মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এতে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌকা ব্যবসা ও স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ও ফিরেছে প্রাণ।

তবে পর্যটকদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তুলনায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো এখনো অনেক পিছিয়ে। পর্যাপ্ত ওয়াশরুম, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ, নিরাপদ পার্কিং, বিশ্রামাগার ও আধুনিক পর্যটনসেবার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত গণপরিবহনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন, ট্রেনের টিকিট সংকট নিরসন, নতুন ট্রেন চালু এবং বিমানভাড়া সহনীয় করা গেলে সিলেটে পর্যটকের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট-জাফলং রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু পর্যটকদের যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং সিলেটের পর্যটন শিল্প, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এটি দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে পরিণত হতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments