১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য রয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জগলুল পাশার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত ১১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে অবস্থান নেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, খালেদা জিয়া যাতে ২৯ ডিসেম্বরের সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে তার বাসার সামনের সড়কে বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন রেখে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। পরে তিনি সমাবেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয় এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করা হয়। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সফরসঙ্গীরা আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় এক দশক পর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।
এদিকে, এই মামলার পাশাপাশি জগলুল পাশার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার’ অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির পর এ মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হবে।



