বেরোবিতে সংঘাতের আশঙ্কা

ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা চেয়ে প্রশাসনের আবেদন

সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০, ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানায় লিখিত আবেদন পাঠান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এ ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ১৪৪ ধারা জারিতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে সামনে রেখে দুই ছাত্রসংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাসজুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির আবেদন আমরা পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “গতকালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আজ আবার দুটি সংগঠন বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না হয় এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে, সে জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি।”

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ব্যানারটিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রদল ব্যানারটি অপসারণের দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসের বাইরে পার্কের মোড় থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত আবারও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এতে বেরোবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সোহেল রানা, শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থী পরিষদের ব্রাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মেহেদী হাসানসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষেও আরও প্রায় ২০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং পার্কের মোড়সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments