বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলীকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। এর আগে গত ৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় চলমান তদন্তে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হবে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসার আলী। ওই সময় ইলিয়াস আলী সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিলেট-২ আসন থেকে দুই মেয়াদে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক নিখোঁজ হওয়ার পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তৎকালীন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড ইমরুল প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে গুমের ঘটনাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, মামলার তদন্তে সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। সেই পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ তাকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো।
ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় আজকের এই হাজিরাকে বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর সাইফুর রহমানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে আদালতের আদেশের অপেক্ষা রয়েছে।



