চার আসামির যাবজ্জীবন
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। মামলাটির শুনানি শুরু হয়েছিল গত ২৮ জুলাই। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১৭ কার্যদিবস শুনানিতে অংশ নেন।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গিয়ে নুসরাত জাহান রাফি যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় তাকে মাদরাসার একটি ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান।
ঘটনার পর নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।
হাইকোর্টের আজকের রায়ে ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০১৯ সালের এ হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দ্রুত বিচার শেষে একই বছরের ২৪ অক্টোবর ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তিতে প্রায় সাত বছর সময় লাগে।



