চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মপরিচালক সায়েদুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে নগরীর নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সায়েদুর রহমানের তিন কন্যা রয়েছে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী এক নাতিকে নিয়ে বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাতে সায়েদুর রহমান স্ত্রীকে ফোন করে দ্রুত বাসায় ফিরে আসতে বলেন। তার ফোন পেয়ে স্ত্রী নাতিকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফেরেন। এরপর বাসায় ঢুকে তিনি সায়েদুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্ত্রীকে ফোনের পরই বাড়িতে ফেরেন
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগে সায়েদুর রহমান ও তার স্ত্রী একই বাসায় ছিলেন না। স্ত্রী নাতিকে নিয়ে বাইরে ছিলেন। ওই সময় সায়েদুর রহমান তাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। তবে কেন তাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
স্ত্রী বাসায় ফিরে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার পরই বিষয়টি আশপাশের লোকজন ও পুলিশকে জানান। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
সায়েদুর রহমানের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে কি না এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিভাইস পরীক্ষা করা হবে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সহকর্মীদের মধ্যে শোক
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা হিসেবে সায়েদুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তালিকায় একই নামে একাধিক সরকারি কর্মকর্তার তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। ফলে সায়েদুর রহমানের কর্মস্থল, দায়িত্ব ও চাকরিজীবনের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত না করে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।



