শুটার জাকির গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পেশাদার শুটার মো. জাকির হোসেন ওরফে খালাতোকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির দাবি, ফুটপাতের দখল ও টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সিজুকে গুলি করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি, কালো রঙের একটি বিদেশি রিভলভার, রিভলভারের চেম্বারে থাকা দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জাকিরকে পেশাদার সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী শুটার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার কাছে অস্ত্র থাকার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-২ নম্বর পর্যন্ত ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ একসময় জামিল হোসেনের হাতে ছিল। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিজু একসময় জামিলের হয়ে কাজ করতেন। তবে ৫ আগস্টের পর সিজু নিজেই ওই এলাকার ফুটপাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে ফুটপাত থেকে টাকা তোলা ও ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এর জেরেই সিজুকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৭ জুলাই রাতে সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় জাকির পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী শুটার কাওছার ভূঁইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অপরাধীচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়-এর সহযোগী হিসেবে জাকির মিরপুর এলাকায় কাজ করতেন। পরে জয় নিহত হওয়ার পর অপরাধীচক্রের আরেক সদস্য তাজকিরের সহযোগী হিসেবে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
দুটি মামলা
সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলি করার ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে এবং অপরটি অস্ত্র আইনে দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটির তদন্ত করছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।



