ডলারের ভাই বললেন, উকিলের ষড়যন্ত্র

রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে বারবার ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির কথা বলার পর তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পর্যন্ত তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে ডলার নামের ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পল্লবীর বি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ৭ নম্বর লেনের ৫২ নম্বর বাড়িটি ডলারদের

জানা গেছে, পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ৭ নম্বর লেনের ৫২ নম্বর বাড়িটি ডলারের পৈত্রিক বাড়ি। ৫ ভাই ২ বোনের মধ্যে ডলার ছোট। তিন তলা বাড়ির সামনে কয়েকটি দোকান রয়েছে। সাত ভাইবোন প্রত্যেকে একটি করে দোকানের মালিক।

৭ নম্বর লেনের একটি বাড়ির বাসিন্দা ডলার হোসেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ডলার মাদকাসক্ত ও পেশায় অটোরিকশা চালক। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ডলার সবার ছোট।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ৭ নম্বর লেনের ৫২ নম্বর বাড়িটি তাদের। ওই বাড়ির একটি অংশে ছোট তিন তলা বাড়ি, যা ডলারের ভাই সেলিমের। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওখানে ডলারের একটি দোকান রয়েছে। যা তিনি ভাড়া দেন। আর পরিবার নিয়ে ওই এলাকার অন্যত্র ভাড়া থাকেন ডলার। যে বাসায় শিশু রামিসার ওপর পাশবিকতা নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই বাড়িটির চার-পাচটি বাড়ির পরই ৫২ নম্বর ডলারদের বাড়ি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় ডলার গুলিস্তানের পীর ইয়ামিনি মার্কেটে পাঞ্জাবির দোকানে সেলসম্যানের চাকরি করত। মালিক ব্যবসায় লস হওয়ায় তিনি দোকান ছেড়ে দেয়। ফলে চাকরি চলে যায় ডলারের। এরপর থেকে অটোরিকশা চালাত। তবে রিকশার গ্যারেজ মেকানিক সোহেলের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিলো।

ডলারের ভাই মানিক বলেছেন, ডলার আমার নিজের আপন ছোট ভাই। তার নামে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। সে যদি এরকমই খারাপ হতো তাহলে তো মানুষ সন্ত্রাসী বলে ডাকতো।

তার ভাষ্য, সোহেল বলছে আমি কিছু করিনি ডলার করছে। যদি ডলার এই হত্যাকাণ্ড করে থাকে, তাহলে ফিঙ্গার প্রিন্ট পাবে না ? যে অস্ত্র ধরেছে ওই অস্ত্রে ফিঙ্গার প্রিন্ট থাকবে না। কিন্তু কিছুইতো পায়নি পুলিশ। এটা সোহেলের উকিলের ষড়যন্ত্র। উকিলই সোহেলকে শিখিয়ে দিয়েছে। আরেকজনের নাম বলতে। মামলাকে বিলম্ব করার জন্য ডলারের ওপর দায় চাপাইতে চাইছে।

এলাকার অপর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সোহেল রানা ও ডলার এক সঙ্গে ইয়াবা সেবন করত। সোহেলের গ্যারেজেই রিকশা রখতো ডলার। দুজনের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। এই এলাকার বেশিরভাগই মাদকাসক্ত। এরা যেমন মাদক সেবন করে এবং মাদক কারবারীতেও জড়িত।

সিএনজি ব্যবসায়ী মো. ফাইয়াজ জানিয়েছেন, যে দিন সকালে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। ওই রাতে সোহেল রানার বাসায় ছিলো ডলার। ওই বাসায় সারারাত তারা ইয়াবা সেবন করেছে। তিনি বলেন, ডলারের ভাষ্য, আমি সারা রাত ছিলাম। সকাল ৬টার দিকে বের হয়ে গেছি। এমন তথ্য এলাকারবাসীর কাছে আছে। তিনি বলেন, ওই দিন আসলেই ওই বাসা থেকে সকালে বের হয়ে গেছে, নাকি বের হয়নি। সেটা বলা মুসকিল।

তিনি আর বলেন, সোহেল রানা যে রুমে থাকতো, সেটা সাবলেট বাসা। একটা ফ্ল্যাটে তিনটা কক্ষ বানিয়ে ভাড়া দিয়েছে। বাকি রুমের লোকজন গ্রামে ছিলো। ফাঁকা পেয়ে রাতভর বাসায় ইয়াবা সেবন করে তারা।

এলাকার কেউ কেউ বলেছেন, শিশুটি হত্যার ঘটনার পর থেকে প্রায় ৪ দিন এলাকায় ছিলেন না ডলার। কোনো আন্দোলনেও তাকে দেখা যায়নি। যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে তখন আবার এলাকায় দেখা গেছে।

ডলার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ডলারের আরেক বড় ভাই সেলিম। তিনি জানিয়েছেন, কিছুই বলতে পারবো না। আমার মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। ঘরে নতুন জামাই, কি বলবো তাদের। চোখে কান্না ছাড়া কিছু নেই। যে পাপ করছে সে বলতে পারবে আর আল্লাহ বলতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, আগে ডলার ভালোই ছিলো। গত ৭/৮ মাস ধরে নেশার জগতে চলে গেছে। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ডলারের নাম আসেনি। মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার পর নাম বলায় কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে। যদি পুলিশ তদন্ত করে তাহলে রহস্য নিশ্চয়ই বের হবে। তবে তার দাবি, শিশুটি হত্যার ন্যায় বিচার হোক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments