ম্যাচ শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে ইরানের ফুটবলারদের

আগামী ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান জাতীয় দলের অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ খেলার জন্য দেশটির ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও প্রতিটি ম্যাচের দিনই তাদের দেশটিতে ঢুকতে ও বেরিয়ে যেতে হবে।

অর্থাৎ ম্যাচ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। যা ফুটবল ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। এছাড়াও ইরানই একমাত্র দেশ যারা, যুদ্ধরত এমন দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের কারণে বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক মাস আগ থেকেই ইরানের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল।

সূচি অনুযায়ী, ইরান তাদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে। এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে আবারও ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে দলটি। নকআউট পর্বে উঠতে পারলে আরো ম্যাচ খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

প্রথমে ইরানের বেস ক্যাম্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুকসনের নাম থাকলেও বর্তমানে তারা মেক্সিকোকে বিকল্প আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম বলেন, ‘ইরানকে মেক্সিকোতে থাকার সুযোগ না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা যদি এখানে অবস্থান করতে চায়, আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

এছাড়াও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার বিষয়টি নিয়ে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ জানিয়েছেন, তাদের দলকে জানানো হয়েছে ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে খেলা শেষ করেই ফিরে যেতে হবে। তিনি বলে, ‘আমরা সকালে প্রবেশ করতে পারি এবং একই দিনে আমাদের চলে যেতে হবে।’ তবে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেনি ফিফা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের খেলোয়াড় ও প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের জন্য ভিসা অনুমোদন করেছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দলের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ ভিসা পাননি।

একজন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় ও সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments