আমেরিকায় ইরাকি স্ট্রাইকারকে সাত ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ

দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরেছে ইরাক। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম বার খেলার ঠিক চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে পা রেখেছে তারা। তবে মাঠে বল গড়ানোর মাত্র কয়েক দিন আগে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রেখেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো ইরাক দলকে।

দলের প্রধান তারকা তথা যার ঐতিহাসিক গোলে ইরাক আবারও বিশ্বকাপে ফিরেছে, সেই স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ প্রায় ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

গত শনিবার খুব ভোরেমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ও’হেয়ার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় পুরো ইরাক দল। প্রিয় ফুটবলারদের বরণ করে নিতে ভোররাতেই বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছিলেন শত শত ইরাকি ফুটবল ভক্ত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সমর্থকেরা দেশের পতাকা হাতে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সেই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যেই বিষাদে রূপ নেয়।

ইরাক দলের ৩০ বছর বয়সি অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড আয়মেন হুসেন বিমানবন্দর থেকে বের হতে গেলে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন। গণমাধ্যমের কাছে এই উদ্বেগজনক তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ইরাকের অলিম্পিক কমিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ঐ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আয়মেন হুসেনকে একটি বন্ধ রুমে নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মার্কিন কর্মকর্তারা তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন এবং সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মানসিক হয়রানির পর শেষ পর্যন্ত অবশ্য হুসেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আইনি অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ইরাকি এই গোলমেশিনের ওপর এমন চরম হয়রানিমূলক আচরণ করা হলেও দলের অফিশিয়াল ফটোগ্রাফার তালাল সালাহর কপাল এতটাও ভালো ছিল না। ঐ একই স্পোর্টিং অফিশিয়াল জানিয়েছেন যে, দলের মূল আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে বিমানবন্দরে নামার পর প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল।

আয়মেন হুসেনের মতোই তালাল সালাহর মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে অত্যন্ত কড়াভাবে চেক করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার মানসিক টর্চার এবং জেরার পর চূড়ান্তভাবে তালাল সালাহকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং তাকে আমেরিকা থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments