হামের টিকা সংগ্রহে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদকে জানিয়েছেন, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়।

টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি-না, সেবিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গতকাল বুধবার সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচিতে থাকা প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ভবিষ্যতে এধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে টিকা সরবরাহব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, টিকা মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ, রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় আরো সুদৃঢ় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এছাড়া দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্র্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইপিআই বাস্তবায়ন করে আসছে। হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার ও টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়।

তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক নিরীক্ষা চলছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান সংসদকে জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি সংরক্ষণের জন্য আরো একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এলক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক দিক নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর ১১০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেসিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন/স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের করা হবে
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান সংসদকে জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং সড়কের ওপর চাপ কমানোর জন্য মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা; সব শ্রেণির মহাসড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা; সব ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড এবং রেডিয়াল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং যানজটপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার নির্মাণ করে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, রেলপথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটসমূহে ইলেক্ট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সেবাকে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরগুলোর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে আন্তনগর ট্রেন ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে যথাক্রমে ৩টি ও ১০টি, ১৫টি ও ১৬টি এবং ১০৩টি ও ৮৫টি করে বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

৫ বছরে কর-জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য
মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে জোর
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, অভিবাসন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরো গতিশীল ও টেকসই করে তুলতে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য

সরকারদলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, ঢাকা ওয়াসা ৬৫-৭০ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩০-৩৫ শতাংশ ভূূ-উপরিস্থ উৎস (যেমন পদ্মা, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদী) থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির প্রায় ৯২ শতাংশ নদী ও জলাধারের মতো ভূ-উপরিস্থ থেকে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ৮ শতাংশ পানি গভীর নলকূপ বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতে ৬ হাজার ৩৫৯টি পদ শূন্য
নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের সেবাকেন্দ্রসমূহে মেডিকেল অফিসার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সেবাকেন্দ্রসমূহে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৭ হাজার ৮৭০টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এরমধ্যে ১১ হাজার ৫০১টি পদে জনবল আছে এবং ৬ হাজার ৩৫৯টি শূন্য পদ রয়েছে।

হজের খরচ আরো কমানোর পরিকল্পনা
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান সংসদকে জানান, আগামীতে হজের খরচ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। হজ পালনের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৬ সালে হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে, যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সৌদি সরকারের ঘোষিত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ২০২৭ সালের প্যাকেজ মূল্য কমানো বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments