স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নেতৃত্বে বদলি-পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা

কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কখনো রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয়। এমন সব পরিচয়ে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি করিয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতার দুই ব্যক্তি হলেন—এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)।

ডিবি বলছে, গ্রেফতার দুজনের মধ্যে নিলুফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ অধিশাখার এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় আমিনুর ও নিলুফার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নিলুফার নেতৃত্বে একটি প্রতারক চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কখনো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। প্রতারণার কাজে তারা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসানের দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে আমিনুর ও নিলুফাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান শফিকুল ইসলাম।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০ মে ডিএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগটি দেন কামরুল হাসান। অভিযোগে বলা হয়, তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপির ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ২০ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে আনিসুরকে আটক করা হয়। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনে তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নিলুফার ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকেও আটক করা হয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আমিনুর ও নিলুফার মোবাইলসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন নিয়ে কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ, সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার দুজনের হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্লেষণ করে প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার সমান বিভিন্ন কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই তথ্যে দেখা গেছে, তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কোথায় পদায়ন করলে কত টাকা দিতে হবে, এ ধরনের কথাবার্তা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তে যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments