অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রিদের জন্য কোনও গাড়ি কেনা হচ্ছে না। তবে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য ৩০০টির মতো গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, আগামী সরকারের মন্ত্রিদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটা আপনারা কোথায় দেখেছেন জানি না। আমাকে কোট করেছে, আমি নাকি অনুমোদন করেছি। প্রশ্নই আসে না, কোনও (মন্ত্রীর) গাড়ি কেনার জন্য আমরা এসব করিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তারা মন্ত্রিদের জন্য গাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তো সেই প্রস্তাব বন্ধ করে দিয়েছি। বলেছি, এ গাড়ি কেনা হবে না। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যেটা করেছিল, অনেকগুলো গাড়ি নষ্ট-টষ্ট হয়েছে, সেটা যাতে নতুন করে কেনা হয়। সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, জনপ্রশাসন থেকে প্রস্তাব এসেছিল ফিল্ড লেভেলে নির্বাচনের জন্য বেশ কতগুলো গাড়ির দরকার। নির্বাচনের সময় ভাঙা গাড়ি নিয়ে দুই মাইল যাওয়ার পর গাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে, সেটা তো আমরা অ্যালাউ করবো না। সেই প্রস্তাবটি আমরা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, এ তিনশ গাড়ির মধ্যে ইউটিলিটি কার এবং মাইক্রোবাস থাকবে। গাড়িগুলো ইউএনও, এসিল্যান্ডরা পাবেন, কিছু ডিসিরাও পাবেন। মোটামুটি আমরা সাশ্রয়ীভাবেই করছি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কিন্তু এমপিদের (সাবেক) অনেকগুলো গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। বেশ দামি গাড়ি, এক-একটা চার থেকে ছয় কোটি টাকা। নিলাম করতে গেছে এনবিআর, এক-একটা দাম উঠেছে ১০ লাখ টাকা। আমি এনবিআরকে বলেছি, এগুলো বিক্রি করার কোনও দরকার নেই। এগুলো আমরা পরিবহন পুলে দিয়ে দেবো। এ রকম মোট ৩০ থেকে ৪০টি গাড়ি আছে। খুবই ভালো গাড়ি।
সম্প্রতি জাপান সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেস্টা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ দক্ষ জনবল নেবে জাপান। তবে এ জন্য জাপানি ভাষা বাধ্যতামূলক বলে জানান তিনি।
পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে সেই ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তি হবে না, কোনো টাকাই নষ্ট হবে না।



