ফলাফলে অনিয়ম শিক্ষার্থীরা মানবে না :ছাত্রদল

ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল গণনায় অনিয়ম হলে শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ভোট গণনায় প্রভাব বিস্তার করতে সারা দেশের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমাদের দৃষ্টিতে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট হয়নি। গতকাল
মঙ্গলবার ভোট শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘সকাল থেকেই আমরা বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসন কর্ণপাত করেনি। টিএসসিতে শিবিরের প্যানেলের প্রার্থীদের সিল মারা ব্যালট পাওয়া গেলেও সেটার পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এর বাইরেও ১২টি অভিযোগ দিয়েছি। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিএসসিতে আমাদের একজন ছাত্রী কর্মী লিফলেট বিতরণ করতে গেলে তার ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এসব কারণে ভোট প্রশ্নবিদ্ধ। তারপরও আমরা এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে আছি। কোনও অন্যায় আমরা মেনে নেবো না।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন একই প্যানেলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম ও এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ।
এদিকে নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সন্ধ্যায় ক্য্যাম্পাসে মিছিল করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াতের ভিসি শিবিরকে জেতানোর চেষ্টা করছেন। এই ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা বিরোধীদের স্থান হবে না।’ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তারা মিছিল নিয়ে টিএসসি ও রোকেয়া হল হয়ে সিনেট ভবনের দিকে যান। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা টিএসসির ভোট গণনা কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন আবিদসহ নেতাকর্মীরা। কিন্তু দায়িত্বরত রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের ঢুকতে দেননি। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে মিছিল করেন তারা।
এর আগে দিনের বেলায় ভোট গ্রহণের সময়েও নানা অভিযোগ এনে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের নেতারা। এসব ঘটনায় টিএসসির ভোটকেন্দ্র সহ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর দেড়টার দিকে লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রশাসনের বাগবিতন্ডার জেরে এই উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের অভিযোগ, প্রশাসন শিবিরের পক্ষে কাজ করছে। জানা গেছে, এ সময় টিএসসিতে শিক্ষার্থীদের কাছে লিফলেট বিতরণ করছিলেন ছাত্রদলের নেতারা। তখন সেখানে অবস্থানরত শিবিরের নেতাকর্মী ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আল সাদী ভূইয়া প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে। নাছির বলেন, ‘শিবিরের প্যানেলের পক্ষে ব্যালটে আগে থেকেই সিল মারার অভিযোগ দিতে গেলে প্রশাসন আমাদের সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করে। আমাদের কোনও কথা শুনতে চাইনি।’ এ সময় সেখানে অবস্থানরত শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উত্তেজনা নিরসনে এ সময় সামনে বের হয়ে আসেন দায়িত্বরত শিক্ষক সামিরা লুৎফা নিত্রা। তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের শান্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এ কেন্দ্রে কোনও অনিয়ম হয়নি। তবে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘টিএসসি কেন্দ্রে শিবিরের পক্ষে সিলমারা ব্যালটের বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে প্রশাসন আমাদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে।’ এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, এই কেন্দ্রে শিবিরের পক্ষে সিলমারা ব্যালট দেখতে পেয়েছেন তার এক বান্ধবী। যদিও শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একুশে হলের কারচুপির অভিযোগ ঢাকতেই এ ধরনের নাটক সাজানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments