কক্সবাজারে চাঞ্চল্য, তদন্তে প্রশাসন; প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রশ্ন
কক্সবাজারে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্যারাসেইলিং করার সময় আকাশ থেকে বঙ্গোপসাগরে পড়ে এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকদিন ধরে প্যারাসেইলিং বন্ধ থাকার কথা থাকলেও গোপনে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে।
নিহত পর্যটকের নাম অক্ষর শৌভিক রায় (৩০)। তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার স্যার ইকবাল সড়কের বাসিন্দা শেখর রায়ের ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে প্রাণ হারান তিনি।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শৌভিকসহ খুলনা থেকে আসা নয়জন বন্ধু শনিবার সকালে দরিয়ানগর সৈকতে যান। দুপুরের দিকে তিনি ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্যারাসেইলিং শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্পিডবোটের সঙ্গে সংযুক্ত প্যারাসেইলের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট উচ্চতায় ওঠার পর হঠাৎ করেই তিনি নিরাপত্তা বেল্ট বা হারনেস থেকে ছিটকে বঙ্গোপসাগরে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কীভাবে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ মান্নান জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিন আগেই দরিয়ানগরসহ জেলার সব প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “সব ধরনের প্যারাসেইলিং বন্ধ ছিল। এরপরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার উপকূলে উত্তাল সাগর, দমকা হাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে রোমাঞ্চকর জলক্রীড়া পরিচালনা কতটা নিরাপদ ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পেছনে অবহেলা, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ত্রুটি কিংবা অনুমতিহীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংসহ বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস পরিচালনায় কঠোর নজরদারি, মানসম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈরী আবহাওয়ায় কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।



