রাজধানীর কলাবাগানে নৃশংসভাবে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জামাতা শিপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন। পরে আদালতে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ফারুক হোসেন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেফতার শিপনকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তিনি হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ওসি আরো জানান, যতটুকু শুনেছি, ভালবেসে তারা বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকত। ঘটনার আগেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার দিন সকালে তিনি আল-আমিন রোডের মসজিদের পাশে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
ওসি বলেন, একপর্যায়ে,শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিয়ে জামাইকে বকাঝকা করে বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে তুমি সবসময় ঝগড়া করো। আমার মেয়ে আর তোমার কাছে থাকবে না, তোমাকে তালাক দেবে। এ কথা শোনার পর শিপন আরও উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী ফারজানাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এসময় মেয়েকে বাঁচাতে গেলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ফারজানা ও ফিরোজা। এই ঘটনার পর শিপন-ফারজানা দম্পতির এক বছর বয়সি ছেলে রায়হানকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে শিপন নিজে পুলিশের কাছে গিয়ে ধরা দেন।
গতকাল শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে দাফন শেষে নাতিকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেন ফারজানার বাবা ফল বিক্রেতা ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, ‘একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। শিপন পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকতো শিপনের। সংসারে শান্তি না থাকায় তালাকের কথা বলছিলো। তালাকের কথা বললেই তো তালাক হয়ে যায় না। তাই বলে নৃসংশ ভাবে এভাবে খুন করবে। ’



