‘গোয়েন্দা সংস্থা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ’

রংপুরে শিক্ষক গণপতিসহ চার খুন

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের এতদিন পরও এর সঠিক ক্লু বের করতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থা। প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমের বক্তব্যেও মিল নেই। ফলে হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়াশা কাটছে না।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি শিক্ষিত, ভদ্র পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হলো। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে গোয়েন্দা সংস্থার পেছনে। অথচ এমন হত্যাকাণ্ড ঘটার পরও আজ পর্যন্ত এর সঠিক ক্লু বের করা গেল না। গোয়েন্দা সংস্থা হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমের কারও কথার সঙ্গে কারও কথার মিল নেই। হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়াশা এখনো কাটছে না। এটি আমাদের উদ্বেগের বিষয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়?’

হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দিয়ে প্রকৃত তথ্য জাতিকে জানাবার মতো কিছু উদ্ঘাটন করতে পেরেছে—এমনটা গণমাধ্যম বলতে পারেনি।’

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

‘ছয় মাসে সাড়ে ৫শ খুন’

সরকারের ছয় মাসের শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার ছয় মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এই সময়ে প্রায় সাড়ে ৫শ খুনের ঘটনা ঘটেছে। জনদুর্ভোগের শেষ নেই।’

তিনি উত্তরাঞ্চলে সারের সংকট, বেশি দাম দিয়েও সার না পাওয়া, চরম লোডশেডিং এবং গ্যাস-জ্বালানি সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, এসব সংকটের দায় সরকারের। জনদুর্ভোগ কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

‘দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে পারেনি সরকার’

সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দায়িত্বে আসার পর সরকার দলীয়করণ থেকে দূরে থাকতে পারেনি। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা নেতাদের পদায়ন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও বিএনপির দলীয় লোকজনকে পদায়ন করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নির্বাচন দেন, এতে দলীয় লোকজন নির্বাচিত হয়ে এলে আসবে। স্লোগান দেন—সবার আগে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত বলে সবার আগে বিএনপি।’

‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাকে হারানো হয়েছে’

দলীয় এমপিদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকেই। তাকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ১ হাজার ৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির পরাজিত নেতাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক হিসেবে পদায়নের অভিযোগ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রশাসন চালাতে গিয়ে তারা এমন শাসন করছেন যে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

সংরক্ষিত নারী এমপি নিয়ে প্রশ্ন

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন আসন তদারকির দায়িত্ব দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট আসনের এমপি নন। সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী জনগণের দেখাশোনা, উন্নয়ন ও বরাদ্দ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদ সদস্যের।

তার অভিযোগ, বর্তমান সরকার অতীতের সব রেওয়াজ ভঙ্গ করে দলীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন আসন তদারকির জন্য ভাগ করে দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটি কি বেআইনি কাজ নয়?’

তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর অনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ‘খবরদারি’ করার জন্য পাঠানো হলে একইভাবে বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদেরও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের আসনে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বৃহত্তর কর্মসূচি’

গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারপ্রধান নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে রায় দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াত ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, শিবির নেতা সামসুল আলমসহ দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments