ফুলবাড়ী-লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত
টেকসই অবকাঠামো ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নে ২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৩০ দশমিক ৮৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার রত্নাই সড়ক সেতুর উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রত্নাই সেতু চালু হওয়ায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী হয়ে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সহজে সড়কপথে যাতায়াত করা যাবে।
তিনি বলেন, সেতুটি চালুর ফলে নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত হবে নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের এই বিস্তীর্ণ এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক বিভাগ, লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলী।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (রংপুর জোন)’-এর আওতায় রত্নাই সড়ক সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১৩০ দশমিক ৮৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। কনক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস লিমিটেড সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস. এম. রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, শনিবার বিকেল ৫টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সেতুর রেলিংসহ সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট সব কাজ সম্পন্ন করা হবে।
রত্নাই সেতু চালুর ফলে লালমনিরহাটের সঙ্গে কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারীর মানুষের জন্য সেতুটি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।



